দুবাই-মিশর-সুয়েজ ক্যানেলের ভিসা জটিলতায় চাকরি হারাচ্ছে বাংলাদেশি নাবিকরা, জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগের দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম হাবে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট, ক্রু-চেঞ্জ, শিপ-জয়েনিং ও সাইন-অফ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে সরকারের প্রতি জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট মেরিনার বা মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। একজন দক্ষ মেরিন অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ জন সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকের সমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম। বাংলাদেশি মেরিনাররা প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার (৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬,০০০ বাংলাদেশি মেরিনার কর্মরত আছেন। নির্ধারিত সময়ে কোনো বাংলাদেশি নাবিক জাহাজে যোগ দিতে না পারলে জাহাজ মালিককে বিকল্প নাবিক নিয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেই বিকল্প নাবিক অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্য দেশের শ্রমবাজারে চলে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইউনাইটেড আরব আমিরাতে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু চেঞ্জ অনুমোদন, মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পোর্ট সাঈদ ও সুইজ ক্যানেল অঞ্চলে সাইন অন এবং অফ-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশি নাবিকরা সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা অনুমোদন না পাওয়ায় নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শতশত নাবিক সময়মতো জাহাজে যোগ দিতে পারছেন না। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশের ক্রু এবং মেরিন অফিসার ইঞ্জিনিয়ারদের জায়গায় ভারত এবং ফিলিপাইনের নাবিকরা চাকুরী পাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশগুলোতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে
মেরিটাইম কাউন্সিলর নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। যিনি নাবিকদের জরুরি ভিসা সমস্যা গ্রহণ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, ভিসা বাতিল বা দীর্ঘসুত্রিতার কারণ চিহ্নিতকরণ, আটকে পড়া নাবিকদের রিপ্যাটরিশনে এবং নাবিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি কোম্পানি এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবেন।তারা বলেন, “আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু পরিবর্তন ব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের চেয়ারম্যান চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা। এতে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী,রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিসের সিইও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের, ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিসের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ক্যাপ্টেন সৈয়দ আমির হোসেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহ, সাংগঠনিক সম্পাদক চীফ ইঞ্জিনিয়ার মইন আহমেদ, এবং এরিসটোক্রাট মার্চেন্ট মেরিন সার্ভিস লিমিটেডের ডিজিএম সুমন সিকদার।